আতঙ্ক নয় করোনায়, সতর্ক হওয়া আবশ্যক

স্বাস্থ্য খবর

বিশ্ব জুড়ে মহামারির রূপ পাওয়া নোভেল করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে আতঙ্ক, সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য গুজব। কোভিড-১৯ এর শুরুর দিকে লক্ষণগুলো হলো—জ্বর, ক্লান্তি ভাব, শুষ্ক কাশি, শরীর ব্যথা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা, পাতলা পায়খানাও হতে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তীব্রতা বাড়ে এবং মৃদু থেকে তীব্রতর শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও কোনো রকম লক্ষণ প্রকাশ পায় না বা মৃদু লক্ষণ থাকতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। সোমবার (২৩ মার্চ) ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়। 

নিবন্ধে আরও জানা যায়, কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত কণার মধ্যে এই ভাইরাসটি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে তিন ফুটের মধ্যে কেউ থাকলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। বাতাসে এই ভাইরাসটি ছড়ায় না, বরং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত কণার মাধ্যমে ছড়ায়। কণাটি ভারি হওয়ায় এটি বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে না, তাই এটি মাটি, মেঝে বা অন্য কোনো বস্তুর ওপর পড়ে এবং দীর্ঘ সময় জীবিত থাকতে পারে। সেখান থেকে স্পর্শের মাধ্যমে অন্য কারোর করোনা সংক্রমণ হতে পারে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় মুখে হাত দিলে বা কফ-থুথু হাতে লেগে গেলে, ঐ হাত দিয়ে যা কিছু ধরা হবেঃ যেমন—টেবিল, চেয়ার, দরজার হাতল, কী-বোর্ড ইত্যাদিতে ভাইরাস থেকে যেতে পারে এবং এগুলো যে কেউ স্পর্শ করলে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো বস্তুর উপরিতলে এ ভাইরাস বেশ কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এজন্য বারবার ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিত্সকরা। স্বাস্থ্যসেবা দানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি।

চিকিত্সকরা প্রায়ই মুখে মাস্ক পরে থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের বেলায় এর কার্যকারিতা নিয়ে তেমন কোনো প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোভেল করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় তারা কোনো ফেইসমাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিতে চান না। বরং নিয়মিত হাত ধুলে সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে কেউ আক্রান্ত হলে তার মাস্ক পরা উচিত, কারণ তার মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়। সুস্থ সাধারণ মানুষের মাস্ক ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না, বরং তা হাঁচি-কাশি এবং জীবাণুযুক্ত হাতের স্পর্শে বেশি বেশি ছাড়ায়। তাই গণহারে, রাস্তাঘাটে ঢালাও মাস্ক পরে চলাফেরার কোনো যুক্তিই নাই। তবে মাস্ক তাদের জন্য পরা আবশ্যক, যারা মেডিকেল কর্মী এবং কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত এবং সংক্রমিত রোগীদের সংস্পর্শে যদি কেউ থাকে। এমনকি ফ্লুর মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলে। যদি কারোর কাশি এবং সর্দি লেগে থাকে—তাকে মাস্ক পরতে হবে। মাস্ককে কখনোই বাইরে থেকে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন না। পিছন থেকে মাস্কটি খুলুন এবং অবিলম্বে এটি ঢাকনাসহ ডাস্টবিনে ফেলে দিন।

করোনা মানেই মৃত্যু নয় বা আতঙ্কের কিছু নেই; তবে আমাদের সাবধানবশত কিছু নিয়মাবলি মেনে চলতে হবেঃ  

১. পাশাপাশি গণপরিবহন বা ভাড়ায় চালিত যানবাহন যেমন ট্যাক্সি, অটোরিকশা ব্যবহার করা যাবে না। ২. ঘরে অবস্থানকালে পরিবারের অন্যদের সংস্পর্শও এড়িয়ে চলতে হবে। ৩. আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে ঐ টিস্যু ব্যবহার করবেন না এবং সেই টিস্যু পুড়িয়ে ফেলতে হবে, যাতে সেখান থেকে ভাইরাস না ছড়ায়। ৪. কেউ যদি রুমাল ব্যবহার করেন, তাহলে সেই রুমাল ও হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন। ৫. বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে দুই হাত ধুয়ে নিবেন অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ৬. করমর্দন, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। যথাসম্ভব ঘরে বা বাড়িতে থাকুন, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো। ৭. দেহে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন সুষম খাবার, টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ৮. ধূমপান ও মদ্যপান একদম নয়। ৯. খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাবেন এবং শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন। ১০. ডিম পোচ করে না খেয়ে ভালোভাবে ভাজি করে খাওয়া উচিত। ১১. যেখানে-সেখানে হাঁচি-কাশি দিবেন না এবং কফ-থুথু ফেলবেন না। ১২. যাদের হাঁচি-কাশি এমনকি সর্দি হয়েছে তারা মাস্ক ব্যবহার করবেন।

লেখক : ডা. রাইসুল ইসলাম রতন, মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

Get involved!

Well Come Our Social Platform

join and share our community.

Comments

No comments yet