আসন্ন বাজেটেই জাতীয়করণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট শিক্ষকের খোলা চিঠি

এমপিও

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা;  আসন্ন বাজেটে একযোগে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারীদের পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি একটি খোলা চিঠি আমাদের বাণী ডট কম এর হাতে এসেছে।  চিঠিটি আমাদের বাণী ডট কম এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল;

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
প্রথমেই সারা বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ বেসরকারি শিক্ষক/কর্মচারীর পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই সালাম/আদাব। শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মদাতা, সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা, শিক্ষা ও শিক্ষক বন্ধু, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিহত শহীদদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনি বিশ্বমানবতার মা হিসেবে ইতিমধ্যে স্বীকৃত, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন, শৃঙ্খলা, সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে আপনার শাসনামলেই। সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে জীবিকা নির্বাহ করা, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা এসব অর্থনৈতিক দূর্দশার সমাপ্তি ঘটেছে। আবার বেসরকারি চাকরিজীবীদেরও রাষ্ট্রীয় আইন মোতাবেক স্বচ্ছলতা এসেছে।

আমাদের বেসরকারি শিক্ষক/কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও আপনার অবদান কম নয়। জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তভুক্তি, ৫% ইনক্রিমেন্ট, ২০% বৈশাখী ভাতা প্রদান করে কৃতার্থ করেছেন।  কিন্তু এসবের পরেও একজন শিক্ষকের সর্বসাকুল্যে বেতন দাঁড়িয়েছে ১৪০০০+,১৬০০০+,১৮০০০+,২২০০০+,২৩০০০+ এবং সর্বোচ্চ ২৮০০০০+ । আবার ২৫% নামেমাত্র বোনাস যা ২০০৪ সালের পর থেকে আজও চলছে। লক্ষ্য করুন একজন শিক্ষকের পরিবারে কমপক্ষে ৫ জন সদস্য থাকলে ক’দিন চলে এ সামান্য অর্থে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
একজন শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক স্টেটস আপনার নিশ্চয়ই অজানা নয়। আপনিই বলুন এ সামান্য বেতনে কিভাবে নিজ পরিবারের ভরণপোষণ, সামাজিকতা রক্ষা, আঞ্চলিক ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সম্ভব। তারপরে অনেকে ভাড়া বাসায় থাকেন, অনেকে অসুস্থ অথবা অন্যান্য সমস্যা তো আছেই। ভাড়া বাসায় থাকা শিক্ষকরা কিভাবে মাসিক এ স্বল্প বেতনে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকে অনুমান করুন। এরচেয়ে অনেক বেশি উপার্জন করেও ব্যবসায়ী, অন্য পেশাজীবীদের হাহাকার নিয়মিত। নামমাত্র বাড়িভাড়া আর চিকিৎসা ভাতা কোন সমাধান নয়। তাদের জন্য সারাদেশে মায়াকান্নার অভাব নেই। কিন্তু, অসহায় শিক্ষকদের দেখার কেউ নেই। আমাদের মন্ত্রনালয়, অধিদপ্তর এ ব্যাপারে উদাসীন। কারণ, উনারা উনাদের সব ধরনের চাহিদার পরিপূর্ণ প্রাপ্তিতে তৃপ্ত। আমাদের নিয়ে ভাববার সময় নেই। আমাদের অসহায়ত্ব, আমাদের দুঃখ – কষ্ট নিয়ে রাস্তায় নামতে পারিনা, হাহাকার করতে পারিনা, কাউকে চিল্লাইয়া বলতে পারিনা। এমন পেশায় আমরা নিয়োজিত যেন আমরা কোন অভিশপ্ত শ্রেণির মানুষ। আমাদের কষ্ট দেখার সর্বশেষ আশ্রয় হিসেবে আপনার দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আপনি দেখুন একজন শিক্ষক তার ছেলেমেয়েদের ভালো প্রতিষ্ঠানে অর্থের অভাবে পড়াতে পারছেনা, তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারেনা। পারিবারিক অশান্তি লেগে যায়। একসময় হৃদরোগ, শারিরীক অক্ষমতায় নিঃশেষ হয় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সমাজ ও রাষ্ট্রকে দু’হাতে উদার ভাবে জ্ঞান বিতরণ করা আলোকিত মানুষটি। একসময় পরিবারটিও ধ্বংস হয়। কেন এ মহৎ ব্যক্তিদের, জাতির বিবেকদের উপর এ নিষ্ঠুর নির্মমতা?

Read more and more  NTRCA এর দুর্নীতি বজায় থাকলে কেন আপনি চাকরি পাবেননা তার কিছু তথ্য ও প্রমাণঃ 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনি হয়তো আমাদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরভাতা সম্পর্কে অবগত নন। এখানে চলছে মহা কেরামতি। ফকিরি নৃত্য আর ইচ্ছেমতো কর্তণ বানিজ্য। অবসরের কাগজ ছয় মাস আগে যথাযথ নিয়মে প্রেরণ করলেও ৬ মাস পর্যন্ত একপ্রকার অন্ধকারেই থাকে আমাদের ষাটোর্ধ শিক্ষক/কর্মচারীদের কাগজপত্র। অনেক তদবির, দেন দরবারের পর ৩/৪ বছর পর টনক নড়ে ঐ ডিপার্টমেন্টের কর্তাদের। এর ভিতরে সারাজীবন কষ্ট করে যাওয়া জাতির ঐ বিবেক অনেকে কষ্ট করতে করতে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। আবার দূর্ঘটনায় বা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তার প্রতি আরও অমানবিক আচরণ করা হয়। মৃত শিক্ষকের স্ত্রী – সন্তানরা এই অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের দরজায় কাঁদতে কাঁদতে ৮/১০ বছর পর সিকি ভাগ অর্থ পান যা তারা এতদিন ধর্ণা দিয়ে খরচ করেছেন। কত অমানবিক, ভাবুনতো !! অথচ প্রতিমাসে নগদে এই দুই তহবিলে শিক্ষকদের বেতনের ১০% কর্তণ করে রাখা হচ্ছে। আমাদের এ টাকার কমিশনে অনেকে বিলাসবহুল বাড়ি গাড়ির মালিক হয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন দলের বড় বড় নেতা হওয়ার দৌড়েও এগিয়ে যাচ্ছেন। কাদের টাকায় করছেন এসব? অসহায় শিক্ষকদের ঘামঝড়ানো টাকায় এসব হচ্ছে।

  এমপিও নীতিমালা কমিটির ২য় সভায় যে সিদ্ধান্ত হল!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক/কর্মচারীগণ বরাবরই আপনার একান্ত ভক্ত। আপনি লক্ষ্য করবেন দেশের জাতীয় কার্যক্রমে প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মকতা/কর্মচারীদের তুলনায় অধিক এগিয়ে থাকেন এই শিক্ষক সমাজ। ভোটার তালিকা প্রণয়ন, জাতীয় পরিপত্র, আদম শুমারী, স্থানীয়/জাতীয় নির্বাচন সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সবার আগে তারাই এগিয়ে আসেন। দেশের যেকোনো দূর্যোগে প্রাণান্ত চেষ্টা করেন সরকারকে সহযোগিতার জন্যে। এই করোনাকালেও তারা অসহায়দের নিজ বেতন দান করে আর্থিক সহযোগিতা করেছে, কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে। দেশের সার্বিক অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সচেতনতার পাশাপাশি কার্যকর সচেতনামূলক কার্যক্রম তারা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

Read more and more  ‘অ্যাভিগানে’র সাফল্য, উৎপাদন হবে বাংলাদেশেও

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
উপরের প্রত্যেকটি সমস্যা নিরসন আলাদা আলাদা ভাবে কখনোই সম্ভব নয়। তাই, অনুরোধ রইল সকল বেসরকারি শিক্ষক/কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করেন। একমাত্র জাতীয়করণই সকল সমস্যার সমাধান করতে পারে। আর এ জাতীয়করণ করলে আপনাকে যারা বিশাল অর্থ যোগানের কথা বলছে তাও অসত্য। কারণ, প্রাতিষ্ঠানিক আয় জমা নিলে এবং শিক্ষার্থীদের বেতন, চার্জ একটা নিয়মে আনলে অর্থ ঘাটতির সম্ভাবনা নেই বরং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতিবছর বিপুল অর্থ সঞ্চিত হবে।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ এ বাজেটেই জাতীয়করণের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে শিক্ষক/কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ নিশ্চিত করুন। এতে এ বিভাগের সমস্ত সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দেশের কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ মসৃণ হবে।

বিনীত,

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারীদের পক্ষে
শিক্ষক, প্রদীপ কুমার দেবনাথ

খুব সস্তা এখনি কিনুন

Get involved!

Comments

No comments yet