করোনা ভাইরাস কোভিড ১৯ নিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু চিন্তা-ভাবনা

জাতীয়

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন সচেতন সাধারন নাগরিক হিসেবে কিছু চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরলাম।যেহেতু আমার জ্ঞান সীমাবদ্ধ,তাই ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়। ১। দেশে যেহেতু করোনা ভাইরাস কোভিড ১৯ এর উৎপত্তি হয়নি তাই প্রথমেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ না করা ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। ২। এরপরেও যেসব বিদেশী,প্রবাসী দেশে এসেছিলেন তাদের সবার কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে না পারা ছিল বড় ভুল। ৩। আমাদের দেশে প্রায় তিন মাস পর এর আক্রমন শুরু হওয়ায় সতর্ক হওয়ার জন্য প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহনের জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিলাম যা কাজে লাগাতে না পারা সবচেয়ে বড় ভুল। ৪। বারবার গার্মেন্টস খোলা-বন্ধের ভুল সিদ্ধান্ত দেশব্যাপী করোনা বিস্তারের বড় কারন। ৫। #১+২+৪+৮+১৬+৩২,—- এটি একটি গুনোত্তর ধারা,যা দ্বিগুন হারে বাড়ছে। করোনার বিস্তার গুনোত্তর ধারার মতই,যা অতীব বিপদজনক। উপরে ভুল গুলো উল্লেখ করার কারন হলো, ভুল বা ব্যর্থতা যতই বেড়েছে এর ক্ষতি ততই গুনোত্তর ধারায় হয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রেই মনে করা হয়েছে বর্তমানে এই পদক্ষেপ নেয়া কঠিন বা দরকার নাই।কিন্তু সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নেয়ার কারনে পরবর্তীতে আরো বেশি কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে,ক্ষতি মোকাবিলা করা আরো কঠিন হয়েছে,ফলে ক্ষতিও অনেক বেশি হয়েছে।অথচ পূর্বেই কম কঠিন পদক্ষেপ কঠোরভাবে নেয়া হলে ভোগান্তি এতো বাড়তোনা। যা ভুল হওয়ার হয়েছে।তবে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করলে আশা করি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে। ১। ঔষধ,খাদ্যসামগ্রী ছাড়া বাকি  দোকান,গার্মেন্টস,কারখানা,গনপরিবহনসহ সবকিছু অবশ্যই কম্পক্ষে ঈদের ১০ দিন পর পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। (গার্মেন্টস ও গনপরিবহন চালু রাখা যে করোনা বিস্তারে কতোটা সহায়ক তা প্রমানিত হয়ে গেছে) ২। ঈদে যদি সবাই নিজের বাসায় যাই তাহলে তা আরো সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। (নিজের পরিবার,প্রিয়জনদের নিরাপত্তার স্বার্থে একটা ঈদ নাইবা করলাম একসাথে।ঈদ একসাথে করতে গিয়ে নিজেদের পরিবার,প্রিয়জনদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে? ) ৩। সরকারী আর্থিক সুবিধা প্রাপ্ত শিল্পকারখানার মালিকদের অবশ্যই তাদের কর্মচারীদের বেতন প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে।বাকিদের মধ্যে যারা বর্তমান সময় মোকাবেলায় অসামর্থ্য,তাদের সরকারীভাবে খাদ্য ও ঔষধ সরবরাহ করতে হবে।

Read more and more  মাদারীপুরের চরমুগরিয়ায় বানর হত্যাকারীদের বিচারের দাবি

(এক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মকান্ড আপাতত স্থগিত রেখে সেই অর্থ,আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যাংক, দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে অর্থের যোগান হতে পারে) ৪। সরকারী ত্রান বা উপহার প্রদান অধিক সততার সহিত পালনের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী,প্রশাসন,জনপ্রতিনিধিদের সাথে শিক্ষক,ধর্মীয় প্রতিনিধি,সমাজে পরিচিত সৎ ব্যক্তিদের অন্তভুক্ত করতে হবে।উপহার সামগ্রী সুষমভাবে বন্টন করতে হবে। দায়িত্বপালনে কারো অসততা পরিলক্ষিত হলে সাথে সাথেই প্রমানসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। ৫। কৃষকগণ এসময় ফসলের দাম ঠিকমত না পেলে গোটা দেশেই খাদ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। তাই কৃষকদের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। ৬। প্রবাসীরা অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।তাদের ব্যাপারেও পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত। ৭।করোনা যুদ্ধে ডাক্তার,স্বাস্থ্যকর্মী,পরিচ্ছন্নতাকর্মী,মেডিকেল টেকনোলজিস্ট,সামরিক বাহিনী,প্রশাসন,পুলিশ, মৃতের দাফন-কাফনে যু্ক্ত ও সংশ্লিদের পিপিই ও সুরক্ষা সরঞ্জামাদি সরবরাহ সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে।কারন এই যোদ্ধাদের ক্ষতি হলে ক্ষতির প্রভাব বেশি হয়। ৮। সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ননএমপিও শিক্ষকগণ বেতনহীন হওয়া সত্ত্বেও তাদের ব্যাপারে কোন সহযোগীতা দেখা যাচ্ছেনা,যা দুঃখজনক। তাই সকল ননএমপিও শিক্ষক,কিন্ডারগার্টেন ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্যও সহযোগীতা থাকা উচিত। ৯। করোনা টেস্ট যাদের করা হবে এবং আশঙ্কাগ্রস্তদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। কারন এমনো দেখা গেছে তিন দিন পর যখন রিপোর্ট আসলো পজিটিভ,তখন সেই ব্যক্তি কর্মস্থলে অথবা তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।তাহলে তার দ্বারা কতোজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? ১০। দেখা গেছে করোনা টেস্টে মানুষের উপর মানুষের লাইন।নিরাপদ দূরত্ব মানা হয়নি। একজনের করোনা হলে বাকিদের কি হবে? ওএমএস, ত্রান,সরকারী-বেসরকারী উপহার,হাট-বাজার সব জায়গায় নিরাপদ দূরত্ব কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ১১। ভয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়,আর সাহস,বিশ্বাস রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।হালকা গরম পানিতে লেবু, ভিটামিন সি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমত বাড়ায় এমন খাবার খেতে হবে সকলকে বোঝাতে হবে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে মৃতের তুলনায় সুস্থদের সংখ্যা অনেক বেশি। রোগীদের এমনভাবে মানষিক সাপোর্ট দিতে হবে।করোনা রোগীকে অবহেলার চোখে দেখা যাবেনা।তাহলে রোগীরা আর তথ্য গোপন করবেনা,অর্থাৎ রোগীর দ্বারা অন্যদেরৃযৃ ক্ষতির সম্ভাবনা কমে যাবে। ১২। হাটবাজার,রাস্তার মোড়ে মোড়ে টিওবয়েল বা টেপ স্থায়ীভাবে স্থাপন করতে হবে, সাথে সবসময় সাবান রাখতে হবে। মসজিদে অযুর স্থানে সাবান শুধু বর্তমানে নয় সবসময় যেন থাকে সংশ্লিষ্টদের এমন ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। ১৩। কারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীদের বলছি- ” আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারী,শ্রমিকগন বছরের পর কাজ করেছেন,আপনার প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই তাদের দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমি আমার চিন্তাধারা ব্যক্ত করলাম।আমার লেখার মাঝে ভুল থাকলে জানাবেন,যৌক্তিকভাবে সমালোচনা করবেন,ভুল হলে আমি সংশোধন করবো। এই লেখাটি ভালো লাগলে,প্রয়োজন মনে হলে এটি সম্পূর্ন বা অংশবিশেষ অথবা প্রয়োজনে সংযোজন,বিয়োজন,সংশোধন করে বর্তমান প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন। সরকারের গৃহীত বর্তমানে পদক্ষেপগুলো জনগনকে অনুসরন করা উচিত।

Read more and more  মোবাইল অ্যাপ নিয্যমূল্যের চাল বিতরণ করেন কালিহাতির UNO

সর্বোপরি,আমাদেরকে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে,এই বিপদ থেকে মুক্তির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোওয়া করতে হবে। মহান আল্লাহ যেন সব মানুষ,জীবসহ সমগ্র বিশ্বকে করোনা ভাইরাস সহ সকল ক্ষতি থেকে হেফাজত করেন,আমিন। #মোঃ_আব্দুস_সালাম (এনটিআরসিএ কর্তৃক প্রাপ্ত সনদ দিয়ে আবদনের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও বেতনহীন ননএমপিও) প্রভাষক, পদার্থ বিজ্ঞান, ঠাকুরগাঁও।

খুব সস্তা এখনি কিনুন

Get involved!

Comments

No comments yet