শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূরীকরণে জাতীয়করণ অপরিহার্য

এমপিও

মোঃআবুলহোসেন।। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের একটিই দাবি সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষেই আশা করি বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে উপহার দিবেন। 

শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূরীকরণে জাতীয়করণ অপরিহার্য। দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বৈষম্য বিরাজমান। বৈষম্য বিরাজমান থাকলে তার প্রভাব পড়বে প্রকৃত শিক্ষার ওপর। ক্রমান্বয়ে তার প্রভাব পড়বে সমগ্র জাতির ওপর। স্বাধীনতার পূর্ণ সুযোগ সুবিধা সবার মধ্যে ভাগ করে দিতে বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের মেরুদণ্ড নির্ভর করে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হতে বাধ্য। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে তাই শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা একই ধারায় পরিচালিত করা প্রয়োজন। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন গতিশীল করতে শিক্ষকদের করতে হবে স্বাবলম্বী। শিক্ষকদের পিছুটান শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। শিক্ষকরাই জাতি গড়ার কারিগর। শিক্ষকরাই একটি দেশের প্রাণ।  কথায় আছে, যে দেশ যত বেশি শিক্ষিত সে দেশ তত বেশি উন্নত। একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষিত জাতি গঠনের ওপর। শিক্ষিত জাতি গঠনে যারা মূখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তারা হলেন জাতি গঠনের নিপুণ কারিগর। শিক্ষকদের পিছনে রেখে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়েছিল একদল বিপদগামী সেনা সদস্য। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে পূরণ করতে দিল না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করেছিল এই মহান নেতাকে। এই মহান নেতার জীবনী থেকে জানা যায় তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। বাঙালি জাতির নাড়ির স্পন্দন।  বাংলাকে সোনার বাংলা গড়ার রুপকার। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। আজ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছে এবং উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ। সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ছাড়া উন্নয়নের ধারা হবে মেরুদন্ডহীন। শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য রেখে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন কখনো পূর্ণতা পাবে না। একই দেশে দুই ধরনের নীতি কখনো মঙ্গল জনক নয়। যেহেতু একই কারিকুলামে পরিচালিত হয় সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা। আগামী ২০২০ – ২০২১ অর্থ বছরে তাই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ।  আর কতকাল বৈষম্যের মধ্যে জীবন যাপন করবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ। একটু ভাবুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করুন । আমরা আর সহ্য করতে পারতেছিনা অভাব অনটনের যন্ত্রণা। বর্তমান সময়ে অনেক শিক্ষকের অবস্থা হলো নুন আনতে পানতা ফুরায়। বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা। ঈদ বোনাস ২৫ শতাংশ। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া উৎসব ভাতার হলো না কোন পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন। বাৎসরিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেয়া হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তা সত্যিই প্রশংসা কুড়িয়েছিল সরকার। কিন্তু দুঃখের বিষয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর ও কল্যান তহবিল নামে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে কর্তন করা হচ্ছে বাড়তি কোন সুযোগ সুবিধা না দিয়ে। এখন সর্বমোট কর্তন করা হয় ১০ শতাংশ হারে। পূর্বে এই অবসর ও কল্যান তহবিলের জন্য কর্তন করা হতো ৬ শতাংশ হারে। এই কর্তনকৃত টাকার সুযোগ সুবিধা ছিল অবসরের জন্য ৭৫ মাস এবং কল্যান তহবিলের জন্য ২৫ মাস সর্বশেষ স্কেলের সমপরিমাণ টাকা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো কর্তন করা হবে এখন ১০ শতাংশ হারে আর সুযোগ সুবিধা বহাল থাকবে পূর্বেরটাই। নেই পেনশনের সুযোগ সুবিধা। চাকরি শেষে তাই মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। নেই সন্তানের শিক্ষা ভাতা এবং গৃহ ঋণ। যা বর্তমান সময়ে সত্যিই দুঃখজনক। সার্বিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে ব্যয় বেড়েছে কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আয় বাড়েনি। স্কেল পরিবর্তনের ফলে দুর্বিষহ জীবন যাপন থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ কিন্তু আনুষঙ্গিক ব্যয়ভার মেটানোর জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে সর্বক্ষণ। বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা নিয়ে মহাসংকটে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ। ১০০০ টাকায় বাংলাদেশের কোথাও বর্তমানে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় না। তার সাথে চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা দেয়া হয় তা দিয়ে নিজের কিংবা সংসারের সদস্যদের চিকিৎসা করানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। 

Read more and more  আগামী (২০-২১) বাজেটে জাতীয়করণ ঘোষণার জোর দাবি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ রইল, আপনি সার্বিক দিক বিবেচনা করে এই অর্থ বছরে বাজেট ঘোষণা করার পূর্বে সমগ্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখে আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন জাতীয়করণের আশা পূরণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি । শিক্ষক সমাজ আপনার এই অবদানের কথা চিরকাল স্মরণে রাখবে। 

লেখকঃ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাশিস(কেন্দ্রীয় কমিটি)

খুব সস্তা এখনি কিনুন

Get involved!

Comments

No comments yet